লিঙ্গ বৈষম্য বাড়ছে নাকি কমছে?

একটি অত্যন্ত জরুরি তথ্য সবাইকে দেওয়া উচিত বলে মনে করলাম।
সম্প্রতি অনেকগুলো পৃথক ঘটনা ঘটছে যাদের থিম টা একই কিন্তু এই খবর গুলো খুব মানুষের কানে এসে পৌঁছয়না, অথবা পৌঁছলেও তারা ঐটুকু সময়ের জন্য কানা এবং কালা হয়ে থাকেন। এদের মধ্যে একটি ঘটনা কয়েকদিন আগের, মেঘা শর্মা নামক একটি মুম্বাইয়ের মডেল তার রেসিডেন্সিয়াল সিকিউরিটি গার্ড কে প্রথমে সিগারেট কিনে আনার আদেশ দেয়, এবং পরে নিজের মর্জি মত মারধর শুরু করে, এমনকি পুলিশ অবধি ঘটনা গড়ায়। এই ঘটনা এবিপি কিংবা কোনো 24 ঘন্টার একটা মিনিটও ঠিক করে পায়নি কারন এগুলো ডাউন মার্কেট খবর। এরপরের ঘটনা, ধর্ষণ নিয়ে। এক বৃদ্ধা দাবি করেন তাকে ধর্ষণ করা হয়েছে বিগত কয়েক মাস আগে। মিডিয়া থেকে ফেসবুক সব জায়গায় সেই যুবকের মৃত্যুদন্ড এবং যৌনাঙ্গ দন্ড চাওয়া হয়, বেশ সেটা হলো। কিন্তু তদন্ত শুরু হওয়ার পর মাস কাটতেই পরিষ্কার হয়ে যায় বিষয় টা, বৃদ্ধা টাকার লোভে এবং ব্যক্তিগত শত্রুতা থাকায় যুবক টিকে ফাঁসায়, এবং পুলিশ এর মেডিকেল টেস্টে কোনোরকম ধর্ষণ এবং শারীরিক আঘাতের উল্লেখ ই নেই। এমতাবস্থায় হাইকোর্ট ক্ষুদ্ব হয়ে মহিলাকে ১লাখ টাকা জরিমানা করে কিন্তু পরে তা বাতিল করেন। আচ্ছা এইবার বলুনতো এই যে নির্দোষ যুবকটি যে জেল এ থাকল এই কটা মাস, সে কি সত্যি সুবিচার পেল? ঘটনা একটা নয়, রিপোর্ট অনুযায়ী ২০১৭ তে ভারতে মোট ৫৬% রেপ কেস ভুয়ো এবং মিথ্যা বলে প্রমাণিত হয়েছে। রাজনৈতিক কারণে ছাড়া পেয়েছে সেটাও নয়। অর্থাৎ যত বেশি সত্যি ধর্ষণ হচ্ছে তার চেয়ে অনেক বেশি নিরীহ ছেলের চরিত্রে দাগ ছিটানো হচ্ছে। যদি নারীধর্ষণ এর লজ্জা সবার হয়ে থাকে, তাহলে এই লজ্জা গুলো কেন একা ছেলেরা ভুগবে? যারা বলেন, রাস্তা ঘাট মেয়েদের জন্য সুরক্ষিত নয় তাদের ও জানা উচিত, ৯৭% ধর্ষণ হয় মেয়েদের চেনা আত্মীয় বন্ধু বান্ধবের মধ্যে। রাস্তা ঘাটে মেয়েদের খারাপ কথা শুনতে হয়, আবার সেই ছেলেদের মধ্যে ২-৩টি মেয়ে থাকে। অনেক মেয়েই যৌন থেকে শাষালো জোকস নিজের বন্ধুদের মধ্যে আলোচনা করে, আর কোনো মেয়ে গেলে তাদের ফিগার দেখে মেয়েরাও কমেন্ট করে। এমনকি মেয়েরাও ছেলেদের ফিগার দেখে বিভিন্ন মতবাদ করে, সেটাকে গসিপ বললে ভুল বলা হয়না। যারা এই বিষয় গুলো কে তোল্লাই দেয় আর তারপর বলে ফিনাইলে বড্ড বেশি বিষ ছিল তারা ওই বিষ টাই ডিসার্ভ করে। এরপরের বিষয়, অনেকে দেখেছি কালো মেয়ে নিয়ে অনেক ইমোশনাল লেকচার দেয়, আর তারপর ইনস্টাগ্রামে ফিল্টার অথবা ফেসপ্যাক মেখে নিজের গায়ের রং ঢেকে লাইক কুড়োয়, অসুবিধা সেখানেই, যেখানে মানুষ নিজের বর্ণ দেখাতে ভয় পায় সেখানে অন্য মানুষ কে দোষ দিয়ে কি হবে? পরিবর্তন তো আগে আমাদের নিজেদের দরকার। আর কালো বলে আমেরিকায় নৃশংস ভাবে অনেক পুরুষ মহিলা মরেছে, অর্থাৎ লিঙ্গের ব্যাপার নয়, যার যত গায়ের জোর, তত সে নৃশংস। চেহারার দিক থেকেও অনেকের একই ধারণা, সমস্যা সেখানেও, এটা একপাক্ষিক নয়, আমাকেও অনেক মেয়ে প্রশ্ন করে তুমি রোগা কেন? যেন আমি ওদের পূর্বপুরুষের সম্পত্তি। অর্থাৎ সমস্যা নারী পুরুষ নির্বিশেষে। প্রত্যেকে আলাদা ধারণায় বিশ্বাসে বড় হয়েছে, কিন্তু নিজের বিশ্বাস কে অটুট রাখতে গিয়ে অন্যের বিশ্বাস কে আঘাত না করাই ভালো। এরপরের ঘটনা কন্যাশ্রী এবং মেয়েদের শিক্ষায় অনেক অর্থনৈতিক সাহায্যকর প্রকল্পের কথা, আচ্ছা ভেবে বলুন তো, গ্রামের মেয়েটা পড়াশুনার জন্য টাকা পাচ্ছে অনেকদূর এগোচ্ছে ভালো কথা, কিন্তু তার ভাই কিংবা তার কোনো দাদা যাদের চোখেও অনেক স্বপ্ন কিন্তু টাকার অভাবে প্রকল্পের অভাবে আর ছেলে বলে যাকে লাঙ্গল টানতে হচ্ছে? কেন শুধু মেয়েরাই সাহায্য পাবে? ছেলেরা নয়? সরকার, জনগন নিজেই তো লিঙ্গের সমতার জায়গায় বৈষম্য টানছে। মনে রাখবেন, পুরুষতান্ত্রিক সমাজ যেমন সতীদাহ চালু করেছিল, আবার সেই পুরুষরাই সতীদাহ বন্ধ করেছিল। তাই গোটা পুরুষ জাতিকে দোষ না দিয়ে গুটিকতক শয়তান দের দোষ দিন, যারা আসলে দোষী, সেটা নারী হোক কিংবা পুরুষ। লড়াই টা নারী পুরুষের নয়, হওয়া উচিত ন্যায়ের সাথে অন্যায়ের, মনুষ্যত্বের সাথে হিংসার, আমাদের নিজেদের কু গুলোর সাথে নিজেদের সু-গুলোর। বদল সবচেয়ে আগে আমাদের দরকার, তারপর অন্যের দিকে আঙ্গুল তুলে বদলের কথা বলবেন।

#fakerapenews, #maleactivist, #threatbyfeminism #genderinequality #society

Comments

Popular posts from this blog

পৃথিবীর সবচেয়ে সুখী মানুষ কে?

Edison vs Tesla

ভ্রমর প্রেম