সত্যেন্দ্রনাথ বসু

ছোটবেলায় যখন বিদ্যাসাগর রবীন্দ্রনাথ কিংবা নরেন্দ্রনাথ এর কথা শুনতাম, তখন মনে হতো আমি যে রাতের আকাশ দেখে তারা দের মধ্যে কি আছে জানার চেষ্টা করি, সেটা কে জানে? বইয়ের পাতায় অনেক ছড়া, কবিতা পড়েছি, কিন্তু প্রথমবার একটু অন্য ধরনের, বলতে গেলে যা একটু বেশি পছন্দ করি, তার প্রথম স্পর্শ পাই সুকুমার রায়ের লেখায় পাই। একটু বড় হতেই প্রফেসর শঙ্কু পড়ে আবার নিজের কল্পনাময় জগতে নিজেকে বৈজ্ঞানিক মনে করতাম, সে বড় হাসির কথা হলেও, ছোটদের মনে যে ভীষন সাংঘাতিক কৌতূহল থাকে তা বলার উপায় থাকেনা। প্রাচী সিনেমার পাশ দিয়ে গলি টা বেরিয়ে শিয়ালদহ স্টেশনের সামনে এসে পড়ে। কিন্তু বাঁয়ে বেঁকে গেলে জগৎ সিনেমা থেকে শ্যামবাজার অবধি রাস্তার নাম এপিসি বোস রোড আর ডায়ে গেলেই এজেসি বোস রোড এর নাম দেখে বাবা কে জিজ্ঞেস করতে বলেছিল, এরা বৈজ্ঞানিক। ওইসময়, বিজ্ঞান বলতে অন্য একটা ধারণা ছিল, যে ধারণা অধিকাংশ বিস্তার করেছিল যারা চাঁদে যায়, রকেট বানায় কিংবা বই লেখে তারাই বিজ্ঞানী। কিন্তু ক্লাস ফোর এ আনন্দবাজারের একটা প্রবন্ধ পড়ে মহাফাপড়ে পড়েছিলাম। পড়ে বুঝেছিলাম প্লাজমা নামক চতুর্থ অবস্থার স্রস্টার জন্মদিন আজ অর্থাৎ ইংরেজি ক্যালেন্ডারের প্রথম দিন। কিন্তু প্লাজমা কি সেটা জিজ্ঞেস করতেই স্কুলের স্যাররাও বেশ বিপাকে পড়তেন, শুধু এটুকু বুঝিয়েছিলেন, যে জেলি আমরা পাউরুটি তে মাখিয়ে খাই, সেরকম জেলি কে কঠিন অথবা তরল দুইই বলা যায়না, বলা হয় প্লাজমা। সেই ধারণা নিয়ে অনেক বছর কাটানোর পর যখন পদার্থবিদ্যার উর্ধ্বতন জীবনে কড়া নাড়ছি, তখন বুঝলাম এই বৈজ্ঞানিক টা বেশ কাজের কাজ করেছেন। সাল তখন ২০১২, শুনলাম এই বৈজ্ঞানিক নাকি একশ বছর আগে ভবিষ্যৎবাণী করে গেছিলেন, আর সেই বছরেই আবিষ্কার হলো ঈশ্বর কণা। কণার নাম দেখে বড্ড চিন্তায় পড়ে গেছিলাম। সেই চিন্তার জট খুলতে আর বেশিদিন সময় লাগেনি, যখন বেশ জাঁকিয়ে পড়লাম, সত্যেন্দ্রনাথ বসুর জন্য বেশ গর্ব হতো, কিন্তু এটাও বেশ আশ্চর্যের লেগেছিল, উনি কোনোদিন নিজের কৃতকর্মের জন্য এতটুকুও গর্ববোধ করেননি। এটা একটা শিক্ষা আমার কাছে। পাওলির সমীকরণ কে নির্ণয় করে এই বিশ্ব ব্রহ্মাণ্ডের সমস্ত অনুকণিকা কে দু ভাগে ভাগ করা যায়, তার মধ্যে এক ভাগ কে বোসন কণা বলে, যা সত্যেন্দ্রনাথ বসু নাম টি থেকেই নেওয়া। একজন বাঙালি, বৈজ্ঞানিক এবং আদর্শ শিক্ষক এর জন্মগ্রহণ আজকের দিনে ১৮৯৪ খ্রিস্টাব্দে। যার কাজের ওপর ভিত্তি করেই এগিয়েছে স্টিফেন হকিং, আইনস্টাইন, ফেইনম্যানের মত গুরুত্বপূর্ণ বিজ্ঞানীর কর্মমন্ডলী। আশা রাখি উনি কোনো সমান্তরাল বিশ্ব ব্রহ্মাণ্ডে আজও জীবিত, এবং এখনো তিনি প্রকৃতির ঘটনাবলির কারণ বিশ্লেষণ করে চলেছেন।

Comments

Popular posts from this blog

পৃথিবীর সবচেয়ে সুখী মানুষ কে?

Edison vs Tesla

ভ্রমর প্রেম