কেমন আছো হেমন্তিকা?

কেমন আছো হেমন্তিকা? তোমার চিঠি পাইনা বহুদিন,
পঞ্জিকা বদল হয়ে গেল, তুমি বদল হয়ে গেলে নাকি?
তুমি ফ্যান্টাসি পছন্দ করতে, যাদবপুরে গেলে খুব মনে পড়ে
ঢাকুরিয়া টা বড্ড ঘোলাটে, এখন আমি দক্ষিণাপনে থাকি
শীত পড়তেই চাদর জড়িয়ে লেকে যেতে, হাত ঢোকাতে আমার পকেটে
তিলোত্তমার ইতিহাস জেনে গল্প বলতে ভীষন গম্ভীর-গর্জনে
কুয়াশা এসে তোমার চোখে পড়ত, সেই ভেজা দৃষ্টি আর কিছুটা অভিমান
তাও সময় করে দেখা করতাম সেই প্রিয় রবীন্দ্র-সদন আর নন্দনে
তোমার চোখের সাদা মেঘে ঘনিয়ে আসা কালো অন্ধকার দেখলে ভয় পেতাম
এই বুঝি বর্ষা এলো শীতে যুদ্ধ করতে, তোমার রুমালে সেই গন্ধ একপেশে
মনে পরে মোহর কুঞ্জে সেই প্রথম আদরকে? ব্যারিকেডহীন দুটো ঠোঁটের কবিতা!
আমার জামাতে তোমার গন্ধ, তোমার উষ্ণতা জড়িয়ে ধরত বড্ড কাছে এসে
মনে পড়ে বাসের শেষ সিটে বসে দুজনের সেই জানলা দিয়ে উকি মারা?
ইকো পার্কের বেঞ্চে মন-জিনিসের কেক কেটে জন্মদিন উদযাপন!
উত্তরের কুমারটুলি, চক্ররেল, গঙ্গার ঘাট, মাটির ভাঁড়ের চা, মনে পড়ে?
ভাঙা দেয়ালের গায়ে চক দিয়ে খোদাই করা সেই নামের শিল্প,
কিংবা সুরে-বেসুরে রবীন্দ্রনাথ-চর্চা; সবটাই একসাথে হাত ধরে
পড়ন্ত বিকেলে সুকান্ত সেতু কিংবা দেশপ্রিয় পার্কের সেই ডালবড়া;
ভিক্টরিয়া ময়দান পেরিয়ে প্রিন্সেপ-ঘাটের ব্যালকনি ভর্তি গঙ্গার হাওয়া
কিংবা বালিগঞ্জ-বাইপাসের শুনশান রাস্তায় একসাথে চোখ থেকে জল ফেলা;
তোমার বাড়ির পথে হেঁটেছি বহু, রাস্তাও মনে রাখে আমাদের আসা-যাওয়া
পঞ্চমী মানেই ছিল দুর্গাপুজোর শুভসূচনা, হাত ধরে সেই ঠাকুর দেখা
বাগবাজার, কলেজ স্কোয়ার, সুরুচিতে ভিড়ের সাথে যুদ্ধজয়
ডিসেম্বর পঁচিশ হলেই পার্ক স্ট্রীট, বো ব্যারাকে আরেক ধরন আসরযাত্রা
ওই বছরই বোধহয় শেষ ছিল, শুরু হলো কেন ভীষন এই অবক্ষয়
এত গুলো মাস চিঠি ফেলেছি ডাকবাক্সে, তোমার থেকে পাইনি কিছু
এবার আকাশ খুব ঝরবে, ঘনায়ে এসেছে কালবৈশাখী, চিঠির খোঁজে হেমন্ত
চল যাব বহুদূরে, আকাশলীনার  সাথে করে, একটা বার কথা বলো,
তুলে রাখো সব অভিমান, হেমন্তিকা ভালোবাসি তোমায় আদি অনন্ত।
© Indrajeet Banerjee

Comments

Popular posts from this blog

পৃথিবীর সবচেয়ে সুখী মানুষ কে?

Edison vs Tesla

ভ্রমর প্রেম