প্রতিটা রাত
প্রতিটা রাত বড্ড একা লাগে। সবাই কেমন যেন অচেনা। যত চিনছি তত অচেনা হচ্ছে একটু একটু করে। তবে এ অচেনা আগ্রহ বাড়ায় না, অপছন্দের হিমেল বাতাস আমাকে উষ্ণ করেই চলেছে, যেন কোনো মৃত রহস্যপুরীর উনুন জ্বলছে, কয়লা নেই, কালি ভুসি নেই, শুধু উত্তাপ টা গায়ে মাখছি। চারদিকে অজস্র শব, আমি হেঁটে চলেছি ধীরে ধীরে শুধু একটু মনের শান্তির খোঁজে। মন বড়ই চঞ্চল, সে শুধু হিমশৈলর মতন জমাট বাঁধতে চায়না, খালি প্রবল বিক্ষোভ করে, সে আর পারছেনা। সে এখন হেরে গেছে। আত্মসম্মান আত্মসমর্পণ করেছে, ভিক্ষা চেয়েছে, জননী তার মৃত প্রসব শিশুকে জড়িয়ে পাথর তাতেও মন চঞ্চল। অজস্র সম্ভবনা তাকে রহস্যের কুটিরে বাঁচিয়ে রেখেছে তাও একলা করে। সে প্রকাশ করতে পারেনা। চারিদিকে বিনামূল্যে মুখোশ বিক্রি হয়েছে, সবাই পড়েছে, তাকে জিগ্যেস করলে সেও ওই মুখোশধারীর মুখোশ ভাষায় প্রকাশ করেছে "আমি জানিনা"। উপহাসের বিদ্রুপ খোচাগুলো তাকে প্রতি পদে ধর্ষণ করেছে। কই কোন মামলা হয়নিত। তার জন্য মোমবাতি মিছিল, কালো বস্ত্র, হয়নিত। সংবাদমাধ্যম তার জন্য সময়ের এক ইঞ্চিও ছাড়েনি। সে বড় বোকা। তার মালিক ই তো তাকে অস্বীকার করেছে, তার বিরুদ্ধে গেছে তাও শরীর কে নিয়ে। এতবছর ধরে যুদ্ধ চলছে, কোনো এনসাইক্লোপিডিয়া তো তাকে নিয়ে লেখেনি, কোনো তথ্যচিত্র হয়নি। তার সমস্ত কিছু শুধু সে করেছে তার নিজের ভেতর। নিজেই নিজের খাদ্য হয়েছে, হয়েছে খাদক নিজেই। নিজেকে ছুরি কাঁচি দিয়ে কেটে ছটফট করেছে, কখনো পোস্টমর্টেম হয়নি। আজ সে চঞ্চল, কারন সে পায়নি, সে ক্ষুধার্ত, সে তৃষ্ণায় চঞ্চলতা শুরু করেছে। কিন্তু শুধু সে নয়। প্রতিটা জীবের ভিতরে হোক কি বাইরে সে আছে, আছে কোটি কোটি এরকম উদ্বাস্তুদের চঞ্চল দল। তারা খুঁজে বেড়াচ্ছে এমন আরেক চঞ্চল কে যার সাথে মিশে দুজনেই শান্ত হতে পারবে। তবে একথাও ঠিক মন যারা ধারণ করে তারা তাদের মন নিয়ে অহংকার গর্ববোধ দুইই করে কেবল মনের কথা শোনেনা। কারন মন তো কখনো অমানবিক হিংস্র নিষ্ঠুর হয়না। হয় ইচ্ছেদের ভিড়ে। আর ইচ্ছে আসে পরিবেশ থেকে, আর বাকি ইন্ধন শরীরের। আসুন না আমরা শরীরের যত্নের সাথে সাথে মন টার একটু যত্ন নিই। মুখটা সাবানে ধুয়ে একবার মন টা কে ধুয়ে দেখুন সে কতটা শুভ্র। একবার ঘৃণা হিংসা দম্ভ কে কোনো জঞ্জালে ফেলে এগিয়ে আসুন, দেখবেন আপনি আপনার পরিবার, আপনার চেনা মানুষরা কতটা আপন হয়ে গেছে। ভালোবেসে যে কতটা সুখ তা প্রমাণ করতে কি খুব খরচ? আরেকবার প্রেমিকার বিশ্বাসের মর্যাদা দিন, বন্ধুর সাথে হিংসা বন্ধ করুন, দেখবেন আপনাদের পৃথিবী এই পৃথিবীর চেয়ে অনেক গুণে বড়।
পুনশ্চ, নিজের মনের যত্ন নিন, তাহলে সেই দায়িত্ব নিয়ে বাকিদের যত্ন নেবে।
Comments
Post a Comment