বেনিমাধবের প্রতি

বেণীমাধব বেণীমাধব, তোমার বাড়ি যাব
বেণীমাধব তুমি কি আর আমার কথা ভাবো
22শে অক্টোবর চিঠি পাঠালে, দেখিনি খুলে
স্নেহার ওপর রাগ ছিল, পার্থকেও গেছিলাম ভুলে
দুনিয়ার পার্থিব অপার্থিব ভালোবাসা তখন ঘৃণার সুরে বাজছে
ফোন বন্ধ, পাশের ঘরে বাবা-মার সে কি অজস্র চিৎকার
দম বন্ধ হয়ে মরছি, মুক্তি চাইছে আমার অশরীরী
সেদিন রাতে দরজা বন্ধ করে বালিশে মুখ গুঁজে কেঁদেছিলাম
মাথায় তখন সবার অভিনয়, সংলাপের ঘনঘটা
কলেজে যাকে এত ভরসা করলাম সে কিনা শেষে আমায়
লজ্জা ঘৃণা ভয় আমাকে শীতের চেয়েও বেশি ধরেছিল জড়িয়ে
আমাকে পাবার আশা কেউ করেনি, যতটা আমার শরীরকে করেছিল
সেদিন আমি দেওয়াল ঘড়ির শব্দটা শুনছিলাম, সময়ের অপেক্ষায়
তারপর থেকে একা থাকার আনন্দ টা বুঝেছিলাম সগৌরবে
সময় পেলে জয় গোস্বামী কে পড়তাম কখনো ভানুসিংহ
ফেইনম্যানে বড্ড অস্বস্তি হতো, প্লাঙ্কেও তাই
জটিল উপপাদ্য ভয় পেতাম, এখন জীবনকে যতটা পাই
10 দিনে নাকি রাশিয়া কেঁপেছিল, ইতিহাস বইতে লেখে
আর আমার ইতিহাস টা ফেসবুক সময়রেখায় মেখে
কতজন ব্লক কত আন ফ্রেন্ড, আরো কত কিছু
বিশ্ববিদ্যালয় পেরোতে দিইনি অতীতে পিছু

29শে ডিসেম্বর,পার্থর বিয়ে হয়ে গেছে, কষ্ট দেয়না,
গা করিনা, এটাও মনের কথা নয়
বাবা মায়ের ডিভোর্সের কেসটাও সম্পুর্ন
আমায় নিতেও দুজনই এগিয়ে আসেনি,
সেদিন রাতে মরতে যাবো, হটাৎ এলো পিওন
খামের মধ্যে একটা সাদা কাগজ, তবে শুধু সাদা নয়
ভালবাসার গোপন জলে সাদা ভরসার রুমাল
গন্ধ মাখা সেই কাগজ টা কে পাঠালো ভাবতে লাগলাম
হৃদিশের খোঁজে তন্ন তন্ন করে সে কি চেষ্টা
খামের ভিতর দেওয়ালে পেন এ আঁকা আমার অবয়ব
খাম ছিড়ে বুঝলাম তুমি সেই বেণীমাধব

কথা নাকি কথাকলি ভাবতে ভাবতে কাকভোর
আলাপ হল বেণীমাধব সুলেখাদের বাড়ি।

Comments

Popular posts from this blog

পৃথিবীর সবচেয়ে সুখী মানুষ কে?

Edison vs Tesla

ভ্রমর প্রেম