অনুচ্চারিত আত্মকথন...
আজ আমি বৃষপর্বার গদার মত একা, একক। আজন্ম তপস্যারত পথ আজ আমার চলার অপেক্ষায় নিমিত্ত…নিজেকে একটা পালকহীন পাখি বলে মনে হয়, ঘরে ফেরার ডাক একই রকম, কিন্তু আমার তো কুলায় নেই, ছানাও নেই… ঘরে ফিরি কেন আমি? আজ আমি হাঁটব, সারারাত খালি পায়ে একা একা, নিজেকে খোঁজার চেষ্টায় গাছের ছায়াকে মানুষ বলে ভুল করব। লৌকিক পরকালতত্বে উপবিষ্ট হব…আমার অপেক্ষার বয়স ভাষার মতই প্রাচীন। ইস্, যদি আলাদিন হতাম? আমার প্রদীপে কি ত্রিকালজ্ঞ ভর করত? মৃত্যুর পর জন্মশতবার্ষিকী পালন করবে না কেউ, অথচ জন্মের পর থেকে কি ভীষন জন্মযাপন। তবে আজ নয়, আজ আমি হাঁটব, সারা রাত খালি পায়েএকা একা, ভীড়ের ভেতর আমার মতিভ্রম ঘটবে, জ্যোৎস্নার আলোয় বিছানা পাতা হবে, আমি শোব …এই অদ্ভুত চরিত্র নিয়ে আমার কখনই জন্মান্তরঘটবে না, ঘটা সম্ভবও নয় , কারন প্রতি রাতে আমার কবচ ভিক্ষায় দেবরাজ আমার মৃত ভ্রুন প্রসব করেন, আমি ও আমার কুন্ডল আমার ঈশ্বরকে বলি তুমি বড় অন্ধকার। তবে আজ আঁধারটা বড্ড ভালো, বড় গভীর, খুব কাছের…… তাই আজ আমি হাঁটব, সারা রাত খালি পায়ে একা একা, নিজ়ের দাঁত উপড়ে বড়শি তৈরিকরব …… অন্ধকারটা গাঢ় হচ্ছে ক্রমশ, কাম্পিল্য নগরেআমার জন্য মৎসচক্ষু আর পাঞ্চালী অপেক্ষারত… আর এখানে, অনাবৃত বুক নিয়ে হেঁটে চলছে যুবতীরা আমার আশায়, কিন্তু আমি তো নিস্কাম, নিষ্পাপ, আমি কিছুতেই ওদের বোঝাতে পারিনা আমি নিথর… শুধু তোমার ঠোঁটের কথা মনে পড়ছে আর বজ্রনির্ঘোষসম ইথারীয় দৃষ্টির কথা, আর কোন কিছুই স্পষ্ট নয়। এই অন্ধকারে আমার দান করবার অধিকার হারিয়েছে, হারিয়েছে সন্মত হওয়ার অভ্যেস। তাইআজ এই আঁধারেই আমার মানস পিতা সূর্যের অধিষ্ঠান হোক… সম্পুর্ন সৃষ্টির তত্বাবধানের দ্বায়িত্ব আমার এই স্ফটিক স্কন্ধে বিরাজ করুক… আর আমার তুমি থেকে মুক্তি ঘটুক সমগ্র আর্যাবর্তের। অদ্ভুত কারনে শুক্রাচার্যের সঙ্গে দেখা হল স্বর্গীয় ফুটপাতে, যেখানে শয়ে শয়ে মৃতদেহ মৃতসঞ্জীবনীর আশায়। কিন্তু মৃতদের আশা কি জীবিত থাকে… নাকি জীবনানুরাগ শেষনাগের মত আগলে রাখে সেই আশা কে… আজ এদের সমস্ত প্রান ধারনের দায় আমার… আমার অহং এর… তাই আজ আমি হাঁটব সারা রাত খালি পায়ে একা একা… ফিরে আসার চেষ্টা করবে আমার আদি সত্বা, অনন্ত হয়ে ওঠার প্রয়াসে…
Comments
Post a Comment