সেই নবম শ্রেণী
তুমি তখন নবম শ্রেণী, আমিও বোধ হয় তাই
নব বিকশিত তখন আমি, তোমায় বললাম
তুমি আমায় এত্ত বড় কাটা চিহ্ন ধরিয়ে দিলে
সেই থেকে আমি কাঁটাই রয়ে গেলাম, কিন্তু
তোমার মনে, তোমার শরীরে ফুটিনি, ব্যাথা দিইনি
তুমি তখন একুশের ঠোঁটে ঠোঁট রাখলে, আমি স্বপ্নে;
তোমার বিকেল ভিক্টরিয়া, সন্ধ্যে মোহরকুঞ্জ,
আমি তখন নতুন মাঞ্জায় হাত পাকাচ্ছি, ভো-কাট-টা;
বন্ধুরা তুইতে মেতেছে তোমায় নিয়ে, আমি তখনো তুমি
কাজললতা, তুমি তার চোখ আঁকতে, দৃষ্টি দিতে কই
না চাইতেও, প্রেম হতো তোমার সাথে মনের আকাশে
তুমি তখন একাদশ, কলাবিভাগের ছাত্রী, আমি বিজ্ঞান
যোগাযোগ হতোনা, দেখা হলে কথাও নয়, আফসোস হতো
আমি তখন বিদ্যালয় ছাড়ব, হঠাৎ দেখি তুমি
একাকী বাতাসে চোখ তোমার ভাসছে, পাশে বসলাম
আমার রুমাল সেদিন স্নান করেছিল, তুমি করিয়েছিলে
তুমি হয়তো কড়ি ছিলে, দ্বাদশ উত্তীর্ণ হলেনা
বাড়িতে তখন কথা বন্ধ, সেও এখন অন্য কোমলের দেহে
তুমি কেন কাঁদছো, মনে মনে জিজ্ঞেস করি
"আমার চেয়ে পরীক্ষা অনেক দামি অনেক সুস্থ
সেও গেল ছাড়ি, আসলে এ শরীর আর টাটকা নয়
ক্ষনিকের জন্য নিজেকে সবচেয়ে সুখী ভেবেছিলাম
বাবা মা অপমান বোধ করে, কথা কহে না আর"
উদাসী তুমি যাযাবরের চেয়েও অনাথ তুমি।
গঙ্গা বক্ষে ঝড় ওঠে, কালবৈশাখী লন্ডভন্ড করবে
ফিরে গেলাম নবম শ্রেণী, চেপে ধরি শক্ত করে হাত
ফ্যাকাসে মুখ আমার পানে চেয়ে কিছু খোঁজে বোধ করি
আকাশ ঘনায়ে আসে, প্রিন্সেপ হয় ফাঁকা, তুমি উঠলেনা
তোমার মনে এক ঝড়, বাইরে আরেক, কথা নেই
দৃষ্টি তোমার বড্ড ক্লান্ত, বলি ক্ষত স্বরে, 'তুমি
কেন ফিরি পানে চাও যে মুখ ঘুরিয়ে নেয়
যে তোমার চারুর খোঁজে ফিরে আসে, তাকে বরখাস্ত দাও কেন"
ঘন্টা দুই পরে, বসে আছি ভিজে একসা কাপরজামায়
তুমি সত্যি ভিজেছ, আমার কাছে ভিজেছ, আমার মধ্যে ভিজেছ
আমি তোমায় ভালোবাসি, তুমিও আপত্তি করলেনা
ওই হিমশীতল বৃষ্টির জলে মুখ গুঁজে দিই ঘাড়ে
ফুটন্ত নিঃশ্বাস তখন শীতল ঘাড়ে কাঁধে চুমু খাচ্ছে
সব ছিল সেদিন, আশা ভরসা কামনা বিশ্বাস আর ভালোবাসা
নতুন করে স্বপ্ন দেখতে শুরু করলে আবার,
আর বারো ঘন্টা বাকি, আমি স্বামী হয়ে যাব তারপর
তুমি গৃহবধূ কেমনে হবে, জানতে সখ জাগে
সকাল সকাল নিজেই বেরোলাম প্রাত ভ্রমনে, মনটা খুব খুশি
খোশমেজাজে বাসের হর্ন কেও পাত্তা দিলামনা;
তুমি আজ লাল শাড়ি পড়তে, আমার কপালে চন্দন
কিন্তু তুলসী কি নাকে ঢুকত? শাস্তি পেলাম নাকি দিলাম
রাত্রি এখন দ্বিপ্রহর, তুমি এখন সাদা ব্লাউজ আর সাদা শাড়ি
চেয়ারে বসে কি এত ভাবছো তুমি, চাও আমার পানে
আমি তো এখন ফ্রেম বন্দি, টেবিলের ওপর শুন্য প্রাণে
সকাল হলো, কান্না থামলনা, থামালেনা, আমি চেয়ে আছি
তোমার দিকে, কেউ আমায় ঘুরিয়ে দিন দয়া করে,
আমি আর দেখতে পাচ্ছিনা তোমায়, নিজেকেও ঘোরাতে পারছিনা
বেলা বারোটা, নবম শ্রেণীর সেই দুজনের লাশ বেরিয়ে এলো
অগ্নিসাক্ষী করে আমরা বিয়ে করলাম, ছাই হলো আমাদের একমাত্র সন্তান।
Comments
Post a Comment