শীতকাল

কুয়াশামাখা শান্ত পথে চলেছি যখন একা,
হটাৎ করে সূর্যমামা দিলো আমায় দেখা।
সুপ্রভাতের বার্তা দিলো আলোমাখা স্নেহ ভরে,
পরিযায়ীরা আনন্দে আজ আকাশ জুড়ে ওড়ে।
ঘাসের মাথায় শিশিরবিন্দু দেখি শিহরিত মনে,
কুকুরগুলো চকিত নেত্রে যেন কতকিছু শোনে।।
ভেড়ার পালের ডাক শোনা যায় দূরের কোনো মাঠে,
মাঝে মাঝে কিছু রমণীরা চলে নাইতে পাশের ঘাটে।
রাখাল ছেলেটা বাজায় বাঁশি খেঁজুর গাছের পাশে,
হাড়িটা ভরছে বাঁশির সুরেতে মিষ্টি খেজুর রসে।

এসব দৃশ্য স্বপ্নেতে আসে দশতলা ফ্ল্যাটে শুয়ে,
চোখ খুলে দেখি কালো ধোঁয়া গুলো দিচ্ছে স্বপ্ন ধুয়ে।
কানের শান্তি কেড়েছে গাড়ি
চোখেতে দূষণ লেগেছে ভারি
লোকজন আজ খুব তাড়াতাড়ি দিচ্ছে অফিসে পারি,
বাংলা মজেছে সোয়েটারে আজ,
ব্রাত্য শাল আর শাড়ি।।
রাখাল ছেলেটা ছেড়েছে বাঁশি যুগের করাল গ্রাসে,
স্মার্টফোনে সে যে হয়েছে মগ্ন মন নেই চাষবাসে।
কুমোর পাড়ার গরুর গাড়িটা ট্যাবলেটে আজ বন্দি,
ইংরেজি শিখে শিশুরা চালাক! শেখেনি বাক্য-সন্ধি।
পরিযায়ী তাই আসেনা তো আর ধুলোভরা এই আকাশে,
শহর রঙিন নকল রঙেতে শীতকাল আজ ফ্যাকাসে।
  - রাজশেখর দত্ত

Comments

Popular posts from this blog

পৃথিবীর সবচেয়ে সুখী মানুষ কে?

Edison vs Tesla

ভ্রমর প্রেম