শহরতলীর গল্প

অমিত আর প্রিয়াংশু অনেক দিনের বন্ধু। একসাথে জীবনে অনেকটা সময় কাটিয়েছে। তাদের গল্প ততদিন তাদের গল্প ছিল যতদিন তারা তাদের মত ছিল।
তারা দুজনেই ছেলেবেলায় প্রথম প্রেমে পড়ে একটি মেয়ের জন্যে, কৌশিকি তার নাম। দুজনেই প্রেমের প্রস্তাব দেয়, তবে অমিত এর প্রতি টান থাকায় কৌশিকি অমিত এর সাথে সম্পর্কে যায়। তবে সেই সম্পর্ক ও বেশিদিন থাকেনা। তবে এর জন্যে তিনজন এর কোনো আপসোস ছিলনা। এর মাঝে কৌশিকির এক বন্ধুর পছন্দ হয় অমিত কে। অমিত সেটি নাকচ করে দিলে সেই বান্ধবী প্রিয়াংশুকে প্রেম নিবেদন করে এবং সেখানেও বান্ধবী(পূজা) নাকচিত হয়।
প্রায় একবছর কেটে যায়। মাধ্যমিক পরীক্ষার আগে প্রিয়াংশু পূজা কে গ্রহণ করে। শুরু হয় ছোটবেলার প্রেম। অমিত ও আরেকটি মেয়ের প্রেম ও তখন চলছে। সবকিছুর মধ্যে অমিত আর প্রিয়াংশুর বন্ধুত্ব গভীর হতে থাকে। এইকরে প্রায় আরো একবছর কাটে। অমিত এর সাথে আগের সম্পর্ক আর থাকেনা। সেই সময় কৌশিকি আর পূজার কমন বন্ধু মিমির ভালোলাগত অমিতকে আবার অমিত এর ও প্রেম জেগেছিল মিমির প্রতি তাই তাদের সম্পর্ক গড়ে উঠল। এইভাবে একই কোচিং এ এই চারজনের প্রেম গড়ে উঠতে শুরু করে। তবে পূজা কৌশিকি কে একদম ই সহ‍্য করতে পারতনা। ক্রমে পূজার অসহ্যের লিস্টে ঢুকে পড়ে অমিত ও মিমিকে। তবে সেটা ওরা না জানলেও জানত খালি প্রিয়াংশু। স্নায়ূর যুদ্ধ যার মধ্যেই থাক অমিত ও প্রিয়াংশুর মধ্যে কোনদিন ছিলনা। ইতিমধ্যে পূজার গৃহশিক্ষক ( পূজার চেয়ে তিন বছরের বড়) এর পছন্দ হয় পূজাকে আর পূজাও ওনাকে provoke করত। এ নিয়ে অনেক ঝগড়া হত প্রিয়াংশুর সাথে পূজার। একদিন পূজা ও তার তথাকথিত বান্ধবীর সাথে ঘুরতে গিয়ে সেই গৃহশিক্ষকের জন্যে প্রিয়াংশু কে ছেড়ে পূজা চলে যায়। ওটাই ওদের সম্পর্কের শেষদিন ছিল। Ego র লড়াইয়ে পূজা কোনও সময় ভুল স্বীকার করেনি বরং সবকিছুর জন্যে অমিত কে দোষ দিয়ে গেছে কারন সম্পর্ক শেষ করার পর যখন প্রিয়াংশু আর অমিতনিজের কলেজের মেয়েদের সাথে বন্ধুত্ব শুরু করে।
প্রায় একবছর পর অমিত আর প্রিয়াংশুর খুব ভালো বান্ধবী হয়ে যায় তাদের কলেজের সহপাঠী, শ্রেয়া। তবে এই বান্ধবীর আড়ালে অমিত এর ভালোলাগা শুরু হয়, আবার শ্রেয়ার ও অমিত কে ভালোলাগত। শ্রেয়ার ভালোবাসা জানত প্রিয়াংশু তবে সে ব‍্যাপারটিকে মজা হিসেবে নিতো। তবে অমিত এর ভালোলাগা টা কেউ জানতো না। পূজোর আগেই প্রিয়াংশু আন্দাজ করে কিন্ত্ত মিমির সাথে সম্পর্ক থাকায় সে তখন চুপ থাকে। তবে পূজোয় কলেজ বন্ধুদের সাথে ঘুরতে গেলে প্রিয়াংশু বুঝতে পারে অমিত possesive হয়ে পড়ছে প্রিয়াংশু আর শ্রেয়ার বন্ধুত্বে। তাই প্রিয়াংশু নিজেই সবার সাথে কথা বলা বন্ধ করে দেয় তবে শ্রেয়াও চায়নি তার সাথে প্রিয়াংশুর বন্ধুত্ব শেষ হয়ে যাক।  তাই অমিত ও কথা বলা বন্ধ করে দেয় প্রিয়াংশুর সাথে। অমিত শ্রেয়া প্রিয়াংশু মিমির চতুস্কোন ত্রিকোন হয়ে যায় প্রিয়াংশু সরে যাবার পর। একদিন শ্রেয়া প্রিয়াংশুর সাথে যোগাযোগ করে, আর বলে অমিত তার সাথে সিনেমা দেখতে গিয়ে শারীরিক ভাবে ঘনিষ্ঠ হয়। তখন প্রিয়াংশু মিমির কথা ভেবে শ্রেয়া কে বলে এভাবে মিমি কে না ঠকাতে। ইতিমধ্যে মিমি প্রিয়াংশুর থেকে জানতে চায় কেন অমিত তার সাথে কথা বলছেনা। সব জেনেও প্রিয়াংশু কিছু বলেনা। এক মাস পর রেজাল্ট বেরোলে অমিত প্রিয়াংশু কে প্রতিযোগিতা মূলক congratulations জানায় আর প্রতি যোগী একদম ই পছন্দ করতনা প্রিয়াংশু তাই সেখানেই সব বন্ধুত্ব শেষ হয়ে যায়। কয়েক মাস পর মিমির সাথে হঠাৎ দেখা হয় প্রিয়াংশুর, তখন জানতে পারে অমিত মিমির সাথে কথা বলেনা, তাই প্রথমে না বলবে ভাবলেও পরে সব কথা বলে দেয়। সেখানেই ওদের সম্পর্ক শেষ হয়ে যায়। অমিত আর শ্রেয়া এরজন‍্যে প্রিয়াংশুর ওপর আরো ক্ষুব্ধ হয়। সেখানেই শেষ হয়ে যায় সব। এদিকে অমিত ও নিজের ভুলে বন্ধুত্ব প্রেম হয়ত হারিয়ে ফেলে আর সবকিছুর জন্যে প্রিয়াংশু কে দোষ দেয়। আরো কয়েকজন এর থেকে প্রিয়াংশু জানতে পারে পূজা তাকে সবার কাছে প্রায় মিথ‍্যেবাদী ও ঠক বানিয়েছে। তাই সে ঠিক করে সবকিছু থেকে সরার আগে সমস্ত সত‍্যি সবার সামনে বলে যাবে। এইভাবে প্রায় সাত বছরের বন্ধুত্ব ও মূল‍্যবান সম্পর্ক ভেঙে যায়।

#ঘটনা ও #চরিত্র কাল্পনিক নয়।

Comments

Popular posts from this blog

পৃথিবীর সবচেয়ে সুখী মানুষ কে?

Edison vs Tesla

ভ্রমর প্রেম